কোরবানি ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পশু জবাই করাকেই কোরবানি বলা হয়। এটি হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের স্মরণে পালন করা হয়।
কোরবানি কার উপর ওয়াজিব?
যে মুসলমান—
- প্রাপ্তবয়স্ক,
- সুস্থ মস্তিষ্কের,
- মুকিম (সফরে নয়),
- এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক,
তার উপর কোরবানি ওয়াজিব।
কোরবানির সময়
কোরবানি করা যায়—
- ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে
- ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
গ্রামাঞ্চলে যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানে সুবহে সাদিকের পর কোরবানি করা যায়।
কোন পশু কোরবানি করা যায়?
নিম্নের পশু কোরবানি করা বৈধ:
- গরু
- মহিষ
- উট
- ছাগল
- ভেড়া/দুম্বা
বয়সের শর্ত
- ছাগল/ভেড়া: কমপক্ষে ১ বছর
- গরু/মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর
- উট: কমপক্ষে ৫ বছর
যে পশু কোরবানি বৈধ নয়
যে পশুর—
- একটি চোখ অন্ধ,
- খুব রোগা,
- খোঁড়া,
- কান বা লেজের বড় অংশ কাটা,
- দাঁত অধিকাংশ পড়ে গেছে,
এমন ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি করা ঠিক নয়।
কোরবানির নিয়ত
মনে নিয়ত করাই যথেষ্ট। মুখে বলা জরুরি নয়। তবে বলা যেতে পারে:
“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করছি।”
কোরবানি করার সুন্নতি পদ্ধতি
১. পশুকে কিবলামুখী করে শোয়ানো।
২. জবাইয়ের আগে “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলা।
৩. ধারালো ছুরি ব্যবহার করা।
৪. পশুকে কষ্ট না দেওয়া।
৫. দ্রুত জবাই করা।
জবাইয়ের দোয়া
আরবিতে:
بِسْمِ اللهِ، اللهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ هٰذَا مِنْكَ وَلَكَ
উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা হাযা মিনকা ওয়া লাকা।
অর্থ:
“আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। হে আল্লাহ! এটি তোমার পক্ষ থেকে এবং তোমারই জন্য।”
গরু বা উটে কয়জন শরিক হতে পারে?
- গরু/মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন
- উটে সর্বোচ্চ ৭ জন
- ছাগল/ভেড়া একজনের পক্ষ থেকে
শরিকদের সবার নিয়ত ইবাদতের হতে হবে। কারও নিয়ত যদি শুধু মাংস নেওয়া হয়, তাহলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না।
কোরবানির গোশত বণ্টনের নিয়ম
মুস্তাহাব হলো ৩ ভাগ করা:
১. নিজের পরিবারের জন্য
২. আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের জন্য
৩. গরিব-মিসকিনদের জন্য
তবে প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি করা যায়।
চামড়ার বিধান
- কোরবানির চামড়া বিক্রি করে ব্যক্তিগত কাজে টাকা ব্যবহার করা যাবে না।
- গরিবকে দান করা বা মাদরাসা/এতিমখানায় দেওয়া যায়।
- কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত বা চামড়া দেওয়া ঠিক নয়।
কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
- জিলহজের চাঁদ উঠার পর কোরবানিদাতা নখ ও চুল না কাটা মুস্তাহাব।
- নিজের কোরবানি নিজে করা উত্তম।
- ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি করা সুন্নত।
কোরবানির উদ্দেশ্য
কোরবানির মূল শিক্ষা হলো—
- তাকওয়া অর্জন,
- আল্লাহর আনুগত্য,
- ত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
(সূরা হজ: ৩৭)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, “আল্লাহ তিন ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম করেছেন। মাদকাসক্ত, পিতা-মাতার অবাধ্য এবং দাইউস, যে তার পরিবারের মধ্যে ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেয়” (মুসনাদে আহমাদ: ২/৬৯)